সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২০, ০৯:২৭ অপরাহ্ন

সোমবার, ২৩শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

আজকে ইরানকে নিয়ে আমেরিকার এতো মাথাব্যাথার কারন কি?

আজকে ইরানকে নিয়ে আমেরিকার এতো মাথাব্যাথার কারন কি?

দেশ বিদেশে দেখবেন ইরানের চলচ্চিত্র অস্কার পেয়ে বসে আছে । এতো বৈরিতার পরেও ইরানকে এড়ানো যায় না কোনভাবেই । তার কোয়ালিটিকে সমীহ করতেই হয় । ইরানের কাছে পরমানু বোমা নেই ,এটা সত্যি । তবে ইরান পরমানু বোমা বানানোর যোগ্যতা রাখে । ডোনাল্ড ট্রাম্প এইখবর ভালো করেই জানেন একবার ইরানের হাতে প্রযুক্তি চলে গেলে সেটা আমেরিকাকে গোনার বাইরে ছুড়ে ফেলবে ।

ইরান নিজের প্রযুক্তিতে বানিয়েছে স্টিলথ প্লেন ।
নিজেদের আর্মি কোরকে উন্নত করছে তারা । বাইরের থেকে সাইন্টিস্টদের প্রশিক্ষন করিয়ে এনে নিজের দেশে কাজে লাগাচ্ছে ।

তেহরান ইউনিভার্সিটি বিশ্বের লিডিং ইউনিভার্সিটি গুলোর মধ্যে একটা । টিচিং কোয়ালিটি আর পড়াশুনার মান দুইটাই ওয়ার্ল্ড ক্লাস । অতএব ওরা পারবে না তো আর কারা পারবে ?

ভারতের একজন সাইন্টিস্টের উপর ডকুমেন্টারি দেখেছিলাম । অবাক হয়ে খেয়াল করলাম ,এই লোক ভালো ইংরেজী বলতে পারে না । বারবার একই শব্দ রিপিট করে । অথচ ইনি কিনা ভারতের অর্জুন ট্যাঙ্ক প্রকল্পের একজন লিডিং সাইন্টিস্ট । অর্জুন ট্যাঙ্কের বিভিন্ন দিকগুলো তিনি সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করে যাচ্ছেন । ভারত যে অর্জুন সিরিজের ২য় টাইপের দিকে অগ্রসর হচ্ছে এই কথা সুন্দরভাবে তুলে ধরা হলো ডকুমেন্টারিতে । ২য় সিরিজের এই ট্যাঙ্ক জার্মানীর লিওপার্ড সিরিজের ট্যাঙ্কের সাথেও পাল্লা দিতে সক্ষম ।

কয়েকদিন আগে এই ভারত ২য় দফায় পাকিদের উপর সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করে প্রমান করে দিয়েছিল ভারত চুপ করে থাকবে না । রাজনীতিতে এইটার প্রভাব ব্যাপক । ফলাফল আজকে নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় । বিজেপি অর্জন করেছে ভারতীয় জনগণের আস্থা ।

ভারতের ইয়াং জেনারেশন হিন্দি গানের তালে তালে যতই মেতে থাকুক না কেন তারা জানে উদ্ভাবন ছাড়া এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় । আর সেই কারনেই আইসিটির জায়গাটা দখল করার জন্য তারা উঠে পরে লেগেছে । নিজেরা একটা গুগল বানাতে না পারলেও গুগলের হেড অফিসের সিইও কিন্তু একজন ভারতীয় । নিজেরা ফেসবুক বানাতে না পারলেও কোয়ালিটি দিয়ে ফেসবুকের অনেক বিভাগে কাজ করছে প্রচুর ভারতীয় । এইটাও আপনাকে মানতে হবে ।

অথচ বাংলাদেশে দেখা যাচ্ছে একজন গ্র্যাজুয়েট কখনো উদ্ভাবনের পেছনে যায় না । সেই উৎসাহও তাকে দেয়া হয় না । পোলাপাইন সারা‌দিন ফেসবুক ও ইউ‌টিউ‌বে প‌রে থা‌কে রিসা‌র্চের জন্য নয় ! মু‌ভি দেখা, চ্যাট করা, গান শোনা এসব ই ক‌রে বে‌শিরভাগ ছে‌লে‌মে‌য়েই !

এখানে যে ছেলেটা ঢাবিতে পড়ে সে নিজেকে মনে করে অক্সফোর্ডের স্টুডেন্ট । যিনি নোবিপ্রবিতে পড়ছেন তিনি নিজেকে দাবী করছেন উপকূলীয় অক্সফোর্ডের ছাত্র হিসাবে । যিনি রাবিতে পড়ছেন তিনি নিজেকে ক্যামব্রিজের সহোদর ভাই মনে করছেন ।

ঢা‌বি, চবির ছেলেটা নিজেকে মনে করছে আগামী দিনের পলিটিক্যাল লিডার । প‌লি‌টিক্স আমা‌দের ছে‌লে‌পে‌লেদের‌কে স্বার্থপরতা ও উগ্রতা শি‌খি‌য়ে যা‌চ্ছে ব্যাপক, বাট লাভ কিছু ই হ‌চ্ছে না !

‌ক্যাম্পা‌সে ঘুরা‌ফেরা আর মিথ্যা প্রেম করা, বিরহ নি‌য়ে ফেসবু‌কে একটা পোস্ট আর বন্ধু দের সা‌থে আড্ডা ও রেস্টু‌রে‌ন্টে খাওয়ার ‌পোস্ট ছাড়া তরুন তরুনী‌দের বোধহয় আর কাজই নাই ! ‌রেস্টু‌রে‌ন্টে খে‌য়ে একটা পোস্ট না দি‌লে ম‌নে হয় ভদ্র সমা‌জে মুখ দেখা‌নো যা‌বে না ! অদ্ভূত ! ! বড় অদ্ভূত ! !

হাতে দুইটা বালা আর মাথায় চুলের জটলা নিয়ে ঘুরে বেড়ালে তাকে মনে করা হয় ক্যাম্পাসের দার্শনিক তথা মহান কবি । সোডিয়াম লাইটের আলোয় বিড়িতে দুইটা টান না মারলে এখানে ক্রেইজ দেখানো যায় না ।

যিনি এখানে বেশি পড়াশুনা করেন তাকে বলা হয় আঁতেল । আর যিনি ক্লাস বাদ দিয়ে ডেট করেন তাকে বলা অয় স্মার্ট । বি সি এসে ঠিকে প্রাক্তনকে বাঁশ দেয়ার স্বপ্ন দেখা একটা ছেলে কি করে একটা এটমিক রিসার্চ ল্যাবে গিয়ে নাম লেখাবে ?

ভাবনার বিষয় ব‌টে ! !
আমা‌দের তরুনরা এ কোন প‌থে আগা‌চ্ছে ? ? ?

এরপরেও আমরা স্বপ্ন দেখি , জামাল নজরুল স্যারের মতো সাইন্টিস্ট আমাদের দেশ থেকেই আবার আসবে । জাহিদ সবুরের মতো পটেনশিয়াল ট্যালেন্ট আবারো বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করবে । একটা দিন হয়তো এরকম আসবে যখন আমাদের ছেলেরাও নাসাতে চাকুরী করবে ।

আমরা স্বপ্ন দেখি ।
বাংলাদেশ স্বপ্ন দেখে।

শেয়ার করুন




©2019 All Rights Reserved by Deyalika.News
Design & Developed BY Deyalika News