বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২০, ০৬:০০ অপরাহ্ন

বৃহস্পতিবার, ২৬শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

উন্নত হতে হলে সেবার মান বদলাতে হবে; বদলাতে হবে মানসিকতাও

উন্নত হতে হলে সেবার মান বদলাতে হবে; বদলাতে হবে মানসিকতাও

উন্নত দেশ গুলোতে পিওন, পাইক ও পেয়াদার চাকুরী গুলো উঠে গেছে। নিজের চা দপ্তরে নিজে বানিয়ে নেয়। এমন কি দু একজন নিয়ে সভা করলে, ঊর্ধ্বতন কর্মী, নিজের চা বা কফির কাপের সঙ্গে সঙ্গী কর্মীর চা ও কফি ও বানিয়ে ছোট স্বচ্ছ কক্ষে সভা সেরে নেন। দপ্তরে ছোট বিস্কিট বা স্নাক্স রাখেন, দু এক পিচ, অফার করেন। ১১,০ টায় বা ২,০-৩,০ টায় সভা হলে এমন কিছু পাবেন। লাঞ্চ এর সময় হাল্কা খাবার দপ্তর গুলোতে প্রায় সবাই বাসা থেকে ই আনে, বা কাফেটরিয়া আছে। সেখানে প্রফেশনাল সেবা। এবং কিনে নিতে হবে।

দেশে অনেক মানুষ কে কাজ দিতে হবে, কাজ প্রয়োজন, কিন্তু সে কাজ গুলো হওয়া উচিৎ উৎপাদন মুখি বেশী, সভা কক্ষ গুলি ও এমন ভাবে করা উচিৎ যেন তা দপ্তরের সবাই ব্যাবহার করতে পারে।

দেশে বেসরকারি অনেক উন্নয়ন সংস্থা কিন্তু এসব চালু করেছে, তাঁদের কাজের মান বাড়াচ্ছে, রাষ্ট্রের দপ্তর গুলো কেন পাচ্ছে না ?

দেশে রিকশা ওয়ালা তৈরি করে কাজের ক্ষেত্র তৈরি করছি । কিন্তু এক শহরে ৩০ লাখ কম আয়ের মানুষ নিয়ে এসে তাঁদের থাকা খাওয়ার সেই শহরে চাপিয়ে দিচ্ছি।

বড় বাস ট্রেন দিয়ে যে শহরে দ্রুত চলাচল সহজ ভাবে করতে পারতাম, সেই শহরে ছোট যান এর আধিক্য, সেই সকল গাড়ির চালক সহ তাঁদের পরিবার মিলে, অনেক বেশী নিম্ন আয়ের মানুষ বাড়াচ্ছি।

দেশের অনেক কর্মী বিদেশে কাজ করে বার্ষিক প্রায় ১৮ বিলিয়ন যে ডলার আয় করছে, তাঁর থেকে প্রায় অর্ধেক দিতে হচ্ছে বাংলাদেশে বিদেশী কর্মী কে। অথচ দেশে অলিতে গলিতে বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠেছে। সেই বিশ্ববিদ্যালয় কিন্তু দেশের চাহিদা মত কর্মী তৈরি করতে পাচ্ছে না।

আমরা কর্মী তৈরি না করে কিছু অপ্রয়োজনীয় খাতে রাষ্ট্রের অনেক এর বেতন ও ভাতাদি দেই, যারা কর্মকর্তা না কর্মচারী, তাঁর চেয়ারে তোয়ালা থাকবে কি না, থাকলে কি রঙয়ের?, দপ্তরের পাশে আয়েশ করার কক্ষ থাকবে কিনা, রাষ্ট্রের সেবা খাত কে কতটা জটিল মারপ্যাঁচ কষানো যায়, তাঁদের স্যার বলবেন না ভাই বলবেন, এসব নিয়ে ব্যাস্ত থাকতে হয়।

সভাগুলিতে গেলে, সভার অতিথি ও প্রধান ব্যাক্তি সব বক্তা এমন বিশেষণ এ বলা শুরু করেন এবং সঠিক হিসেব নিলে ১০ জন বক্তা ৫০ মিনিট শুধু সভার প্রধান ব্যক্তির গুণ কীর্তন করেন, ২ ঘণ্টার সভায় ৫০ মিনিট এসব গুণ কীর্তন না করে all protocol observed বলে সভায় অনেক গতি আনা যায়।

সময় ও সম্পদ ব্যয় যদি, ঘরে বা দপ্তরে না শিখাতে পারি, তাহলে উন্নয়নশীল দেশের তকমা নিয়েই বুড়ো হয়ে মরে যেতে হবে, উন্নত দেশ আর দেখা হবে না, যেখানে সঠিক সেবা, সল্প মুল্যে সেবা, সথিব সময়ে সেবা দেয়া হতে হবে কর্মীর লক্ষ।

উন্নত হতে হলে, সেবার মান বদলাতে হবে, বদলাতে হবে মানসিকতা্‌ আর সেটি শুরু করতে হবে উপরের দপ্তর থেকে, আর তা শুরু করতে ঘটা করে উদ্বোধন করে চমক দেয়া , বা ব্যয় বাড়িয়ে না, ব্যয় বাড়ানো নয়, আজ ও এখন থেকে একটু একটু করে বদলানো শুরু করি।
প্রতিদিন ই বদলাবে।

একটি একটি করে দপ্তর এবং এভাবে দেশ বদলাবে।

আমি বদলাব, তুমিও এবং এমনি করে দেশ ও।

লেখকঃ মাহমুদুল ইসলাম সেলিম

শেয়ার করুন




©2019 All Rights Reserved by Deyalika.News
Design & Developed BY Deyalika News